কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামীকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডেকেছে তারা। গত রাতে রাজধানীতে সাতটি বাসসহ সারা দেশে ৭০টিরও বেশি গাড়িতে আগুন দিয়েছে শিবিরের কর্মীরা।
তবে শিবির সভাপতি গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই সকালের দিকে রাজশাহী মহানগরীতে জামায়াত-শিবির পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে বোমার আঘাতে মকবুল হোসেন (২৫) নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের এক হাতের কবজি উড়ে যায়, অন্য হাতের তিনটি আঙুলও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া গলাসহ তাঁর শরীরে বেশ কয়েকটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। নগরীর রানীবাজার এলাকায় ১২ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আরো চার পুলিশসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়। ঘটনার পরে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংগঠনের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে বিকেলে পুঠিয়ার শিবপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে পাঁচটি ট্রাক ভাঙচুর করে শিবির রাজশাহী পূর্ব জেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর করে এবং আগুন দেয় শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সারা দেশ থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
রাজশাহীতে সকালে সংঘর্ষ : নগরীর রানীবাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় গুরুতর আহত উপপরিদর্শক মকবুল হোসেনকে চিকিৎসার জন্য গতকালই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান বি কে দাম বলেন, মকবুল হোসেনের দুই হাতের কবজিই উড়ে গেছে বলা যায়। তবে বাম হাতের দুটি আঙুল কোনোমতে লেগে আছে। এ ছাড়া তাঁর গলার ওপরে ও মুখের নিচে স্প্লিন্টারের গুরুতর একটি জখম রয়েছে। জরুরি অপারেশন শেষে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে নগর পুলিশ সদরের কনস্টেবল রফিকুল ইসলামও (৩০) মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ডা. বি কে দাম বলেন, রফিকুলের বাম হাতের কনুইয়ের মধ্যে বোমার স্প্লিন্টার ঢুকে গেছে। তাঁর হাতেরও অপারেশন করা হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক মকবুল হোসেনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।'
সংঘর্ষ থামার পর পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, এরা সকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত ছিল। ঘটনার পর নগরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টায় নগরীর বাটার মোড় এলাকায় আমান ট্রেডিংয়ের সামনে থেকে প্রায় তিন শ নেতা-কর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে জামায়াত-শিবির। তারা সেখান থেকে কয়েক হাত দূরে রানীবাজার মাদ্রাসা মার্কেটের সামনে গিয়ে তিন-চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তেই প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আশপাশ। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় টহলরত পুলিশের একটি দল বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে আরো কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। রানীবাজারের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক শ রাউন্ড রাবার বুলেট, কয়েকটি টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে উত্তর প্রান্তে অবস্থান নেওয়া জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ককটেল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু নেতা-কর্মীও এ সময় আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রানীবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হামলার মুখে পুলিশ এক পর্যায়ে পেছনে সরতে বাধ্য হয়। তবে সামনের দিকে থাকা উপপরিদর্শক মকবুল হোসেন পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পেরে একটু দেরি করেন। সেই সুযোগে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাঁকে লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। তিনি আত্মরক্ষার্থে বোমাটি দুই হাত দিয়ে থামাতে গেলে বিস্ফোরিত হয়ে তাঁর দুই হাতের কবজি পর্যন্ত উড়ে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পিছিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে মকবুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।'
এদিকে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ফোন করে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আর নিজেদের বোমায় আহত হয়েছেন এসআই মকবুল হোসেন। তবে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া পুলিশ কনস্টেবল রুহুল আমীন বলেন, 'জামায়াত-শিবিরের ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতেই মকবুল হোসেন আহত হয়েছেন। মকবুল স্যারের কাছে কোনো বোমা ছিল না।'
মহানগর পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান বলেন, 'রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে হাত উড়ে যাওয়ার মতো কোনো বোমা নেই। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাণ্ডব চালিয়ে নিজেদের বাঁচাতে এখন মিথ্যাচার করছে। তারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সেটি নারকীয় ও কাপুরুষোচিত।'
সংঘর্ষের পর র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে যোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যায়।
রানীবাজার এলাকার মমিন সাইকেল স্টোরের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'সামপ্রতিককালে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের আরো কয়েকটি সংঘর্ষ ঘটেছে এই এলাকায়; কিন্তু আজকের (গতকাল) মতো ভয়াবহ সংঘর্ষ এর আগে কখনো দেখিনি।'
মারুফ ইলেকট্রনিক্সের মালিক ইসা শেখ জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছিলেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভেতর থেকেই তাঁরা শক্তিশালী বোমার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। শাটার নামানো ছিল বলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একজন পান দোকানদার বোমার স্প্লিন্টারে সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
শিবির সভাপতি গ্রেপ্তার গতকাল দুপুরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে শিবির সভাপতি দেলাওয়ারকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, 'সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে (দেলাওয়ার) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হরতালের সময় বোমাবাজিসহ নাশকতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে।'
দেলাওয়ারকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডেকেছে শিবির। একই সঙ্গে আজ সোমবার দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল জব্বার হরতালের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'জালিম সরকার অন্যায়ভাবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে।'
রাজধানীতে ৭ বাসে আগুন সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত রাতে রাজধানীর গুলশান, মাতুয়াইল, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও জজকোর্টের সামনে সাতটি বাসে আগুন দেয় ছাত্রশিবিরকর্মীরা। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গুলশানের শাহজাদপুরে রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে এবং মাতুয়াইল এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের তিনটি বাসে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে সেফটি পরিবহনের বাসে এবং জজকোর্টের সামনে বাহাদুর শাহ পরিবহন ও একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন গাড়িগুলোর আগুন নেভায়।
চট্টগ্রাম : সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগরের বহদ্দারহাট এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রশিবির। এ সময় ভাঙচুর হয়েছে অন্তত ২০টি গাড়ি। একটি লেগুনা, একটি রাইডার পরিবহন ও একটি বাসে আগুন দেয় তারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড দেয় তারা। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। নগরে শিবিরের তাণ্ডব বন্ধে পুলিশ বেশ কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়ে। আটক করা হয়েছে তিনজনকে।
জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গতকাল বিকেল ৪টা থেকে বাঁশখালী প্রধান সড়কের দক্ষিণ অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও ইট বিছিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তারা কিরিচ, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল করার সময় ছয়টি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। ফলে বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজার সদর ও জেলার পেকুয়া, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : রাত ৮টায় মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যানসহ যানবাহনে হামলা চালায়। উপজেলার ছোটকমলদহ এলাকায় একটি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে তারা। একই সময় মহাসড়কের আরো পাঁচ স্থানে তারা ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রায় ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা। বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
রাজশাহী : পুঠিয়া থানার ওসি মীর্জা আব্দুল কুদ্দুস জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ বিমানবন্দর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে শিবিরকর্মীরা। এ সময় তারা একটি ট্রাকে ভাঙচুর ও ট্রাকচালককে মারধর করে এবং দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রায় একই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা এলাকায় শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে এবং দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। পরে রাত ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০০-৩৫০ জন শিবির নেতা-কর্মী মিছিল বের করে। এ সময় তারা ১৫-২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। রাত ১১টার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকায় ১১-১২টি গাড়ি ভাঙচুর এবং একটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। খড়খড়ি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়ক গাছ কেটে অবরোধ করে রাখা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : স্থানীয় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল শেষে সন্ধ্যায় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। শহরের পিটিআই, শিবতলা ও বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
খুলনা : শিবিরকর্মীরা নগরীর ব্যস্ততম শান্তিধাম এলাকায় সন্ধ্যায় ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং একটি ট্রাক ও ইজিবাইক ভাঙচুর করেছে।
গাইবান্ধা : ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের উভয়পাশে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মহেশপুর ও জুনদহ এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় বিকেলে গাছের গুঁড়ি, বৈদ্যুতিক পোল ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়।
ফেনী : শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের পাঠানবাড়ী রাস্তার মাথায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি গ্রিন টাউন সার্ভিস বাসে আগুন দেয় ও ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা।
লক্ষ্মীপুর : ছাত্রশিবির বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নোয়াখালী : শিবিরকর্মীরা বিকেলে শহরে বেশ কিছু গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। এ সময় তারা নোয়াখালী পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়ক এবং পাঁচবিবি-ঘোড়াঘাট সড়কে গাছ ফেলে, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ইট দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিকেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পুরানাপৈল এলাকায় দুটি যানবাহনও ভাঙচুর করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।
সংগঠনের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে বিকেলে পুঠিয়ার শিবপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে পাঁচটি ট্রাক ভাঙচুর করে শিবির রাজশাহী পূর্ব জেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর করে এবং আগুন দেয় শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সারা দেশ থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
রাজশাহীতে সকালে সংঘর্ষ : নগরীর রানীবাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় গুরুতর আহত উপপরিদর্শক মকবুল হোসেনকে চিকিৎসার জন্য গতকালই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান বি কে দাম বলেন, মকবুল হোসেনের দুই হাতের কবজিই উড়ে গেছে বলা যায়। তবে বাম হাতের দুটি আঙুল কোনোমতে লেগে আছে। এ ছাড়া তাঁর গলার ওপরে ও মুখের নিচে স্প্লিন্টারের গুরুতর একটি জখম রয়েছে। জরুরি অপারেশন শেষে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে নগর পুলিশ সদরের কনস্টেবল রফিকুল ইসলামও (৩০) মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ডা. বি কে দাম বলেন, রফিকুলের বাম হাতের কনুইয়ের মধ্যে বোমার স্প্লিন্টার ঢুকে গেছে। তাঁর হাতেরও অপারেশন করা হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক মকবুল হোসেনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।'
সংঘর্ষ থামার পর পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, এরা সকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত ছিল। ঘটনার পর নগরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টায় নগরীর বাটার মোড় এলাকায় আমান ট্রেডিংয়ের সামনে থেকে প্রায় তিন শ নেতা-কর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে জামায়াত-শিবির। তারা সেখান থেকে কয়েক হাত দূরে রানীবাজার মাদ্রাসা মার্কেটের সামনে গিয়ে তিন-চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তেই প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আশপাশ। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় টহলরত পুলিশের একটি দল বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে আরো কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। রানীবাজারের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক শ রাউন্ড রাবার বুলেট, কয়েকটি টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে উত্তর প্রান্তে অবস্থান নেওয়া জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ককটেল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু নেতা-কর্মীও এ সময় আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রানীবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হামলার মুখে পুলিশ এক পর্যায়ে পেছনে সরতে বাধ্য হয়। তবে সামনের দিকে থাকা উপপরিদর্শক মকবুল হোসেন পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পেরে একটু দেরি করেন। সেই সুযোগে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাঁকে লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। তিনি আত্মরক্ষার্থে বোমাটি দুই হাত দিয়ে থামাতে গেলে বিস্ফোরিত হয়ে তাঁর দুই হাতের কবজি পর্যন্ত উড়ে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পিছিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে মকবুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।'
এদিকে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ফোন করে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আর নিজেদের বোমায় আহত হয়েছেন এসআই মকবুল হোসেন। তবে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া পুলিশ কনস্টেবল রুহুল আমীন বলেন, 'জামায়াত-শিবিরের ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতেই মকবুল হোসেন আহত হয়েছেন। মকবুল স্যারের কাছে কোনো বোমা ছিল না।'
মহানগর পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান বলেন, 'রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে হাত উড়ে যাওয়ার মতো কোনো বোমা নেই। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাণ্ডব চালিয়ে নিজেদের বাঁচাতে এখন মিথ্যাচার করছে। তারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সেটি নারকীয় ও কাপুরুষোচিত।'
সংঘর্ষের পর র্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে যোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যায়।
রানীবাজার এলাকার মমিন সাইকেল স্টোরের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'সামপ্রতিককালে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের আরো কয়েকটি সংঘর্ষ ঘটেছে এই এলাকায়; কিন্তু আজকের (গতকাল) মতো ভয়াবহ সংঘর্ষ এর আগে কখনো দেখিনি।'
মারুফ ইলেকট্রনিক্সের মালিক ইসা শেখ জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছিলেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভেতর থেকেই তাঁরা শক্তিশালী বোমার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। শাটার নামানো ছিল বলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একজন পান দোকানদার বোমার স্প্লিন্টারে সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
শিবির সভাপতি গ্রেপ্তার গতকাল দুপুরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে শিবির সভাপতি দেলাওয়ারকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, 'সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে (দেলাওয়ার) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হরতালের সময় বোমাবাজিসহ নাশকতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে।'
দেলাওয়ারকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডেকেছে শিবির। একই সঙ্গে আজ সোমবার দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল জব্বার হরতালের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'জালিম সরকার অন্যায়ভাবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে।'
রাজধানীতে ৭ বাসে আগুন সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত রাতে রাজধানীর গুলশান, মাতুয়াইল, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও জজকোর্টের সামনে সাতটি বাসে আগুন দেয় ছাত্রশিবিরকর্মীরা। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গুলশানের শাহজাদপুরে রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে এবং মাতুয়াইল এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের তিনটি বাসে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে সেফটি পরিবহনের বাসে এবং জজকোর্টের সামনে বাহাদুর শাহ পরিবহন ও একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন গাড়িগুলোর আগুন নেভায়।
চট্টগ্রাম : সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগরের বহদ্দারহাট এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রশিবির। এ সময় ভাঙচুর হয়েছে অন্তত ২০টি গাড়ি। একটি লেগুনা, একটি রাইডার পরিবহন ও একটি বাসে আগুন দেয় তারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড দেয় তারা। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। নগরে শিবিরের তাণ্ডব বন্ধে পুলিশ বেশ কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়ে। আটক করা হয়েছে তিনজনকে।
জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গতকাল বিকেল ৪টা থেকে বাঁশখালী প্রধান সড়কের দক্ষিণ অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও ইট বিছিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তারা কিরিচ, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল করার সময় ছয়টি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। ফলে বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজার সদর ও জেলার পেকুয়া, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : রাত ৮টায় মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যানসহ যানবাহনে হামলা চালায়। উপজেলার ছোটকমলদহ এলাকায় একটি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে তারা। একই সময় মহাসড়কের আরো পাঁচ স্থানে তারা ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রায় ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা। বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
রাজশাহী : পুঠিয়া থানার ওসি মীর্জা আব্দুল কুদ্দুস জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ বিমানবন্দর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে শিবিরকর্মীরা। এ সময় তারা একটি ট্রাকে ভাঙচুর ও ট্রাকচালককে মারধর করে এবং দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রায় একই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা এলাকায় শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে এবং দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। পরে রাত ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০০-৩৫০ জন শিবির নেতা-কর্মী মিছিল বের করে। এ সময় তারা ১৫-২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। রাত ১১টার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকায় ১১-১২টি গাড়ি ভাঙচুর এবং একটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। খড়খড়ি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়ক গাছ কেটে অবরোধ করে রাখা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : স্থানীয় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল শেষে সন্ধ্যায় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। শহরের পিটিআই, শিবতলা ও বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
খুলনা : শিবিরকর্মীরা নগরীর ব্যস্ততম শান্তিধাম এলাকায় সন্ধ্যায় ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং একটি ট্রাক ও ইজিবাইক ভাঙচুর করেছে।
গাইবান্ধা : ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের উভয়পাশে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মহেশপুর ও জুনদহ এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় বিকেলে গাছের গুঁড়ি, বৈদ্যুতিক পোল ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়।
ফেনী : শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের পাঠানবাড়ী রাস্তার মাথায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি গ্রিন টাউন সার্ভিস বাসে আগুন দেয় ও ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা।
লক্ষ্মীপুর : ছাত্রশিবির বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নোয়াখালী : শিবিরকর্মীরা বিকেলে শহরে বেশ কিছু গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। এ সময় তারা নোয়াখালী পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়ক এবং পাঁচবিবি-ঘোড়াঘাট সড়কে গাছ ফেলে, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ইট দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিকেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পুরানাপৈল এলাকায় দুটি যানবাহনও ভাঙচুর করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।