ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি, ককটেলের বিস্ফোরণ, ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে একজন পুলিশ সদস্যসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩৫ জন। মারপিট করা হয়েছে এক সাংবাদিককে।
গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিবিরের স্মারকলিপি দেওয়া ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার কপি বিলি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেছে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিনতে না পারায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম সরকার। সে অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে উপাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, '১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস খোলা থাকবে।' ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আবার শুরু হবে। আগের দিন হলগুলো ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এর আগে বিকেল ৪টায় শিক্ষক সমিতিসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন, ছাত্রসংগঠন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাত ৯টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এরপর সিন্ডিকেট সভা বসে। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলা ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট তাদের কথিত দুটি হলে লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ, শিক্ষকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই স্মারকলিপির কপি বিলি করে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজুর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে। তখন দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে প্রায় ২০-৩০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এতে মহসিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ও শিবিরের একজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ পুলিশ কনস্টেবলকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই শিবিরকর্মীকেও চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর নাম জানা যায়নি।
প্রথম দফা সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা সাদ্দাম হোসেন হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) দক্ষিণ পাশ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পেছনে ইটপাটকেল, রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয় টিএসসির পূর্ব পাশের ফুটবল মাঠ ও স্মৃতিসৌধের কাছে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিবিরের অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় শিবির। এ সময় প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। ককটেল ফাটানো হয় ১৫-২০টি। গুলি ও বোমা বিস্ফোরণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিবিরকর্মীরা এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের তিনটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আছেন ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজু, কর্মী শামীম খান, গাফ্ফার, হালিম, সবুজ, শাহীন, বেলাল এবং শিবিরকর্মী ইব্রাহিম, মোস্তাফিজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২৮টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও দেড় শ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করেছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ছাত্রলীগের তোপের মুখে পড়েন। ছাত্রলীগের কর্মীরা রামদা নিয়ে উপ-উপাচার্যের দিকে তেড়ে এলে তিনি দৌড় দেন। এ সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে বৈঠকে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দুপুর ১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন দিগন্ত টিভির ক্যামেরাম্যান নাজমুলকে বেদম মারপিট করে এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ার বলেন, 'শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও হলের সাবসিডি বৃদ্ধির দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে আসার সময় ছাত্রলীগের ক্যাডার ও বহিরাগতরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।'
ছাত্রলীগ নেতা মিজু ও গাফ্ফার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় শিবিরকে প্রতিহত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের চেষ্টা করছি। এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
ঝিনাইদহে শিবিরের কোচিং সেন্টারে আগুন : আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে ঝিনাইদহে ছাত্রলীগকর্মীরা শিবিরের তিনটি কোচিং সেন্টারে আগুন দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে ছাত্রশিবির শহরে মিছিল বের করে তাণ্ডব চালায়। এরপর সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ শহরে পাল্টা মিছিল বের করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরের এইচএসএস সড়কের প্যারামাউন্ট ও ফেমাস কোচিং সেন্টারে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে এতে ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নাসির আনসারীর বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর শহরের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় ছাত্রলীগকর্মীরা সাকসেস কোচিং সেন্টারে আগুন দেয়।
সুত্র - কালের কন্ঠ
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেছে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিনতে না পারায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম সরকার। সে অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে উপাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, '১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস খোলা থাকবে।' ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আবার শুরু হবে। আগের দিন হলগুলো ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এর আগে বিকেল ৪টায় শিক্ষক সমিতিসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন, ছাত্রসংগঠন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাত ৯টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এরপর সিন্ডিকেট সভা বসে। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলা ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট তাদের কথিত দুটি হলে লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ, শিক্ষকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই স্মারকলিপির কপি বিলি করে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজুর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে। তখন দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে প্রায় ২০-৩০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এতে মহসিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ও শিবিরের একজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ পুলিশ কনস্টেবলকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই শিবিরকর্মীকেও চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর নাম জানা যায়নি।
প্রথম দফা সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা সাদ্দাম হোসেন হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) দক্ষিণ পাশ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পেছনে ইটপাটকেল, রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয় টিএসসির পূর্ব পাশের ফুটবল মাঠ ও স্মৃতিসৌধের কাছে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিবিরের অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় শিবির। এ সময় প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। ককটেল ফাটানো হয় ১৫-২০টি। গুলি ও বোমা বিস্ফোরণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিবিরকর্মীরা এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের তিনটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আছেন ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজু, কর্মী শামীম খান, গাফ্ফার, হালিম, সবুজ, শাহীন, বেলাল এবং শিবিরকর্মী ইব্রাহিম, মোস্তাফিজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২৮টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও দেড় শ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করেছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ছাত্রলীগের তোপের মুখে পড়েন। ছাত্রলীগের কর্মীরা রামদা নিয়ে উপ-উপাচার্যের দিকে তেড়ে এলে তিনি দৌড় দেন। এ সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে বৈঠকে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দুপুর ১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন দিগন্ত টিভির ক্যামেরাম্যান নাজমুলকে বেদম মারপিট করে এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ার বলেন, 'শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও হলের সাবসিডি বৃদ্ধির দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে আসার সময় ছাত্রলীগের ক্যাডার ও বহিরাগতরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।'
ছাত্রলীগ নেতা মিজু ও গাফ্ফার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় শিবিরকে প্রতিহত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের চেষ্টা করছি। এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
ঝিনাইদহে শিবিরের কোচিং সেন্টারে আগুন : আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে ঝিনাইদহে ছাত্রলীগকর্মীরা শিবিরের তিনটি কোচিং সেন্টারে আগুন দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে ছাত্রশিবির শহরে মিছিল বের করে তাণ্ডব চালায়। এরপর সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ শহরে পাল্টা মিছিল বের করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরের এইচএসএস সড়কের প্যারামাউন্ট ও ফেমাস কোচিং সেন্টারে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে এতে ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নাসির আনসারীর বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর শহরের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় ছাত্রলীগকর্মীরা সাকসেস কোচিং সেন্টারে আগুন দেয়।
সুত্র - কালের কন্ঠ