কাল সারা দেশে শিবিরের হরতাল, জামায়াত-শিবিরের ত্রাস আগুন ভাঙচুর

কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. দেলাওয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সারা দেশে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রশিবির। আগামীকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডেকেছে তারা। গত রাতে রাজধানীতে সাতটি বাসসহ সারা দেশে ৭০টিরও বেশি গাড়িতে আগুন দিয়েছে শিবিরের কর্মীরা। 
তবে শিবির সভাপতি গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই সকালের দিকে রাজশাহী মহানগরীতে জামায়াত-শিবির পুলিশের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে বোমার আঘাতে মকবুল হোসেন (২৫) নামে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের এক হাতের কবজি উড়ে যায়, অন্য হাতের তিনটি আঙুলও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া গলাসহ তাঁর শরীরে বেশ কয়েকটি স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। নগরীর রানীবাজার এলাকায় ১২ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় আরো চার পুলিশসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়। ঘটনার পরে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সংগঠনের সভাপতিকে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে বিকেলে পুঠিয়ার শিবপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে পাঁচটি ট্রাক ভাঙচুর করে শিবির রাজশাহী পূর্ব জেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। দুপুরের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ভাঙচুর করে এবং আগুন দেয় শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সারা দেশ থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
রাজশাহীতে সকালে সংঘর্ষ : নগরীর রানীবাজার এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় গুরুতর আহত উপপরিদর্শক মকবুল হোসেনকে চিকিৎসার জন্য গতকালই হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান বি কে দাম বলেন, মকবুল হোসেনের দুই হাতের কবজিই উড়ে গেছে বলা যায়। তবে বাম হাতের দুটি আঙুল কোনোমতে লেগে আছে। এ ছাড়া তাঁর গলার ওপরে ও মুখের নিচে স্প্লিন্টারের গুরুতর একটি জখম রয়েছে। জরুরি অপারেশন শেষে চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে নগর পুলিশ সদরের কনস্টেবল রফিকুল ইসলামও (৩০) মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ডা. বি কে দাম বলেন, রফিকুলের বাম হাতের কনুইয়ের মধ্যে বোমার স্প্লিন্টার ঢুকে গেছে। তাঁর হাতেরও অপারেশন করা হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক মকবুল হোসেনকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।'
সংঘর্ষ থামার পর পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী রয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, এরা সকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত ছিল। ঘটনার পর নগরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টায় নগরীর বাটার মোড় এলাকায় আমান ট্রেডিংয়ের সামনে থেকে প্রায় তিন শ নেতা-কর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে জামায়াত-শিবির। তারা সেখান থেকে কয়েক হাত দূরে রানীবাজার মাদ্রাসা মার্কেটের সামনে গিয়ে তিন-চারটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তেই প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আশপাশ। এই পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় টহলরত পুলিশের একটি দল বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া দেওয়ার চেষ্টা করে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে আরো কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। শুরু হয় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। রানীবাজারের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক শ রাউন্ড রাবার বুলেট, কয়েকটি টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে উত্তর প্রান্তে অবস্থান নেওয়া জামায়াত-শিবিরকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ককটেল, ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। জামায়াত-শিবিরের বেশ কিছু নেতা-কর্মীও এ সময় আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও রানীবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'হামলার মুখে পুলিশ এক পর্যায়ে পেছনে সরতে বাধ্য হয়। তবে সামনের দিকে থাকা উপপরিদর্শক মকবুল হোসেন পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পেরে একটু দেরি করেন। সেই সুযোগে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাঁকে লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে। তিনি আত্মরক্ষার্থে বোমাটি দুই হাত দিয়ে থামাতে গেলে বিস্ফোরিত হয়ে তাঁর দুই হাতের কবজি পর্যন্ত উড়ে যায়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পিছিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা ছুটে এসে মকবুলকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।'
এদিকে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ফোন করে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষে তাদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। আর নিজেদের বোমায় আহত হয়েছেন এসআই মকবুল হোসেন। তবে সংঘর্ষে অংশ নেওয়া পুলিশ কনস্টেবল রুহুল আমীন বলেন, 'জামায়াত-শিবিরের ছোড়া শক্তিশালী বোমার আঘাতেই মকবুল হোসেন আহত হয়েছেন। মকবুল স্যারের কাছে কোনো বোমা ছিল না।'
মহানগর পুলিশ কমিশনার মনির-উজ-জামান বলেন, 'রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাছে হাত উড়ে যাওয়ার মতো কোনো বোমা নেই। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা তাণ্ডব চালিয়ে নিজেদের বাঁচাতে এখন মিথ্যাচার করছে। তারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, সেটি নারকীয় ও কাপুরুষোচিত।'
সংঘর্ষের পর র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে যোগ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই মধ্যে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা বিভিন্ন অলিগলি দিয়ে পালিয়ে যায়।
রানীবাজার এলাকার মমিন সাইকেল স্টোরের মালিক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'সামপ্রতিককালে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের আরো কয়েকটি সংঘর্ষ ঘটেছে এই এলাকায়; কিন্তু আজকের (গতকাল) মতো ভয়াবহ সংঘর্ষ এর আগে কখনো দেখিনি।'
মারুফ ইলেকট্রনিক্সের মালিক ইসা শেখ জানান, সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পরপরই দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছিলেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। দোকানের ভেতর থেকেই তাঁরা শক্তিশালী বোমার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। শাটার নামানো ছিল বলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তবে একজন পান দোকানদার বোমার স্প্লিন্টারে সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
শিবির সভাপতি গ্রেপ্তার গতকাল দুপুরে রাজধানীর শ্যামলী এলাকা থেকে শিবির সভাপতি দেলাওয়ারকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, 'সাম্প্রতিক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের কয়েকটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে (দেলাওয়ার) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হরতালের সময় বোমাবাজিসহ নাশকতার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা আছে।'
দেলাওয়ারকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামীকাল সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালও ডেকেছে শিবির। একই সঙ্গে আজ সোমবার দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে তারা। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল জব্বার হরতালের ঘোষণা দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'জালিম সরকার অন্যায়ভাবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেপ্তার করেছে।'
রাজধানীতে ৭ বাসে আগুন সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত রাতে রাজধানীর গুলশান, মাতুয়াইল, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও জজকোর্টের সামনে সাতটি বাসে আগুন দেয় ছাত্রশিবিরকর্মীরা। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, গুলশানের শাহজাদপুরে রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে এবং মাতুয়াইল এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের তিনটি বাসে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে সেফটি পরিবহনের বাসে এবং জজকোর্টের সামনে বাহাদুর শাহ পরিবহন ও একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন গাড়িগুলোর আগুন নেভায়।
চট্টগ্রাম : সভাপতিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগরের বহদ্দারহাট এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রশিবির। এ সময় ভাঙচুর হয়েছে অন্তত ২০টি গাড়ি। একটি লেগুনা, একটি রাইডার পরিবহন ও একটি বাসে আগুন দেয় তারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে ব্যারিকেড দেয় তারা। পরে পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়। নগরে শিবিরের তাণ্ডব বন্ধে পুলিশ বেশ কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়ে। আটক করা হয়েছে তিনজনকে।
জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীরা গতকাল বিকেল ৪টা থেকে বাঁশখালী প্রধান সড়কের দক্ষিণ অংশে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও ইট বিছিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তারা কিরিচ, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মিছিল করার সময় ছয়টি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করে। ফলে বাঁশখালী হয়ে কক্সবাজার সদর ও জেলার পেকুয়া, চকরিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) : রাত ৮টায় মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, কাভার্ড ভ্যানসহ যানবাহনে হামলা চালায়। উপজেলার ছোটকমলদহ এলাকায় একটি বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে তারা। একই সময় মহাসড়কের আরো পাঁচ স্থানে তারা ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রায় ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা। বেশ কিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
রাজশাহী : পুঠিয়া থানার ওসি মীর্জা আব্দুল কুদ্দুস জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর উপকণ্ঠ বিমানবন্দর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে শিবিরকর্মীরা। এ সময় তারা একটি ট্রাকে ভাঙচুর ও ট্রাকচালককে মারধর করে এবং দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রায় একই সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন কাজলা এলাকায় শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে এবং দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে। পরে রাত ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩০০-৩৫০ জন শিবির নেতা-কর্মী মিছিল বের করে। এ সময় তারা ১৫-২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। রাত ১১টার দিকে নগরীর খড়খড়ি এলাকায় ১১-১২টি গাড়ি ভাঙচুর এবং একটি পণ্যবাহী ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। খড়খড়ি এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার বাইপাস সড়ক গাছ কেটে অবরোধ করে রাখা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ : স্থানীয় ১৮ দলীয় জোটের ডাকা হরতাল শেষে সন্ধ্যায় ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। শহরের পিটিআই, শিবতলা ও বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
খুলনা : শিবিরকর্মীরা নগরীর ব্যস্ততম শান্তিধাম এলাকায় সন্ধ্যায় ছয়টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং একটি ট্রাক ও ইজিবাইক ভাঙচুর করেছে।
গাইবান্ধা : ঢাকা-বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের উভয়পাশে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মহেশপুর ও জুনদহ এবং গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় বিকেলে গাছের গুঁড়ি, বৈদ্যুতিক পোল ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়।
ফেনী : শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের পাঠানবাড়ী রাস্তার মাথায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি গ্রিন টাউন সার্ভিস বাসে আগুন দেয় ও ভাঙচুর করে শিবিরকর্মীরা।
লক্ষ্মীপুর : ছাত্রশিবির বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নোয়াখালী : শিবিরকর্মীরা বিকেলে শহরে বেশ কিছু গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর করে। এ সময় তারা নোয়াখালী পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।
জয়পুরহাট : জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়ক এবং পাঁচবিবি-ঘোড়াঘাট সড়কে গাছ ফেলে, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ইট দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বিকেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পুরানাপৈল এলাকায় দুটি যানবাহনও ভাঙচুর করে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা।

আজ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হরতাল না দেওয়ার দাবি শিক্ষকদের

আজ সোমবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। সাত হাজার ৮০৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ ১২ হাজার ৫৮১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মোট কেন্দ্র দুই হাজার ২৮৮টি। এবার সাতটি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন থাকছে, গত বছর ছিল মাত্র একটি বিষয়ে।
এবার এমন এক সময়ে এই পরীক্ষা শুরু হচ্ছে যখন হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি কখনো সারা দেশে, কখনো বা অঞ্চলভিত্তিক দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে হরতাল না দেওয়ার আহবান জানিয়ে গতকাল রংপুরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শিক্ষকরা।
তবে পরীক্ষার দিনে কোথাও হরতাল দেওয়া হলেও যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযূষ দত্ত কালের কণ্ঠকে বলেন, 'পরীক্ষার দিনগুলোতে যদি হরতাল বা রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি না থাকে তাহলে ভালো হয়; নয়তো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয়তো রাজনৈতিক কর্মসূচির মাঝেও পরীক্ষা নিতে হতে পারে।'
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অনাহূত কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। কোনো উপায়ে নকলও হবে না। নকল বন্ধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরীক্ষা চলাকালে হরতাল না ডাকার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা যে সাতটি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেবে সেগুলো হচ্ছে- বাংলা প্রথম পত্র, রসায়ন প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র, পৌরনীতি প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র।
প্রায় আড়াই মাস ধরে চলবে এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা। তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২৮ মে পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষে ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদী শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিম, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি (বিএম) ও ঢাকা বোর্ডের অধীনে ব্যবসায় প্রশাসন ডিপ্লোমা (ডিআইবিএস) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ১০ লাখ ১২ হাজার ৫৮১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র পাঁচ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬২ জন এবং ছাত্রী চার লাখ ৭৬ হাজার ৯১৯ জন। গতবারের তুলনায় এবার ৮৫ হাজার ৭৬৭ জন পরীক্ষার্থী বেড়েছে। ২০১২ সালের পরীক্ষায় ৯ লাখ ২৬ হাজার ৮১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ছিল।
আজ সকাল ১০টায় শুরু হবে পরীক্ষা। সকালে এইচএসসির ক্ষেত্রে বাংলা প্রথম পত্র, আলিমে বাংলা সাহিত্য এবং কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রে (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নে ৬০ নম্বর এবং বহু নির্বাচনী (অবজেকটিভ) প্রশ্নে ৪০ নম্বর রয়েছে। সৃজনশীল রচনামূলক প্রশ্নে দুই ঘণ্টা ১০ মিনিট, উত্তরপত্র গ্রহণ, ওএমআর বিতরণের জন্য ১০ মিনিট এবং বহু নির্বাচনীর জন্য ৪০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বোর্ডে ৩১১টি কেন্দ্রে ৯০৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। রাজশাহীতে ১৮০টি কেন্দ্রে ৬৫৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক লাখ সাত হাজার ১২৭ জন, কুমিল্লায় ৩০৬টি কেন্দ্রে ৩০৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৫৫০ জন, যশোরে ২০৪টি কেন্দ্রে ৫১৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক লাখ ১১ হাজার ১৫১ জন, চট্টগ্রামে ৮৭টি কেন্দ্রে ১৯৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৪ হাজার ১৭১ জন, বরিশালে ৮৬টি কেন্দ্রে ২৬৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫২ হাজার ৮৬৭ জন, সিলেটে ৭২টি কেন্দ্রে ১৬৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৩ হাজার ২৮২ জন এবং দিনাজপুরে ১৭১ কেন্দ্রে ৫১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৯ হাজার ৫৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় ৩৯৬টি পরীক্ষাকেন্দ্রে দুই হাজার ৬৬১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৮৮ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৫১ হাজার ২১৯ এবং ছাত্রী ৩৭ হাজার ৫৬০ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএম) এক হাজার ৫৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৬০০টি কেন্দ্রে ৯৫ হাজার ৯৫৬ জন অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র রয়েছে ৬৪ হাজার ১০৫ এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ৮৫১ জন। ঢাকা বোর্ডের অধীনে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজে (ডিআইবিএস) ১৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৮টি কেন্দ্রে চার হাজার ৬০৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিদেশে সাতটি কেন্দ্র থেকে ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। কেন্দ্রগুলো হলো জেদ্দা, রিয়াদ, দোহা, আবুধাবি, দুবাই, বাহরাইন ও ত্রিপলি।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আজ সকালে ঢাকা কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, ২০১২ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়লেও কমেছে পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা। গত বছর কেন্দ্র ছিল ৮৮টি। ২০১৩ সালে একটি বাড়লেও দুটি কেন্দ্র স্থগিত থাকায় মোট কেন্দ্র সংখ্যা এখন ৮৭টি। আর বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেও শিক্ষার্থীদের মতো দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। তবে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পীযূষ দত্ত বলেন, কেন্দ্রের আসনসংখ্যা নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।
হরতাল না দেওয়ার দাবি : আমাদের রংপুর অফিস জানায়, রংপুরে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে হরতাল না দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে গতকাল রবিবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষকরা। রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ আবদুল ওয়াহেদ মিয়া, আতিয়ার রহমান প্রামাণিক, শাহ রেজাউল ইসলাম, ময়েন শাহ, অধ্যাপক রওশানুল কাওছার সংগ্রাম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, পরীক্ষার সময় হরতাল দেওয়া হলে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং পরীক্ষা খারাপ হয়।

শিবির-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ইবি ক্যাম্পাস রণক্ষেত্র- বিশ্ববিদ্যালয় সাত দিন বন্ধ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি, ককটেলের বিস্ফোরণ, ভাঙচুরের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে একজন পুলিশ সদস্যসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৩৫ জন। মারপিট করা হয়েছে এক সাংবাদিককে। 

গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিবিরের স্মারকলিপি দেওয়া ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার কপি বিলি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিশ্ব-বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শাহিনুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেছে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিনতে না পারায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য ড. আবদুল হাকিম সরকার। সে অনুযায়ী আজ সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে উপাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, '১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অফিস খোলা থাকবে।' ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম আবার শুরু হবে। আগের দিন হলগুলো ছাত্রদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
এর আগে বিকেল ৪টায় শিক্ষক সমিতিসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন, ছাত্রসংগঠন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাত ৯টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এরপর সিন্ডিকেট সভা বসে। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত চলা ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ২০১১ সালের ১৪ আগস্ট তাদের কথিত দুটি হলে লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ, শিক্ষকদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেয়। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ওই স্মারকলিপির কপি বিলি করে। এ নিয়ে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়।
এর কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজুর নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে শিবিরের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে। তখন দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে প্রায় ২০-৩০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। এতে মহসিন নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ও শিবিরের একজন কর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ পুলিশ কনস্টেবলকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ওই শিবিরকর্মীকেও চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর নাম জানা যায়নি।
প্রথম দফা সংঘর্ষের পর শিবিরের নেতা-কর্মীরা সাদ্দাম হোসেন হল, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) দক্ষিণ পাশ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের পেছনে ইটপাটকেল, রামদা, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেয় টিএসসির পূর্ব পাশের ফুটবল মাঠ ও স্মৃতিসৌধের কাছে। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিবিরের অবস্থান লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় শিবির। এ সময় প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। ককটেল ফাটানো হয় ১৫-২০টি। গুলি ও বোমা বিস্ফোরণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিবিরকর্মীরা এ সময় ছাত্রলীগ নেতাদের তিনটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে আছেন ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজু, কর্মী শামীম খান, গাফ্ফার, হালিম, সবুজ, শাহীন, বেলাল এবং শিবিরকর্মী ইব্রাহিম, মোস্তাফিজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২৮টি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও দেড় শ রাউন্ড গুলি ব্যবহার করেছে।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ছাত্রলীগের তোপের মুখে পড়েন। ছাত্রলীগের কর্মীরা রামদা নিয়ে উপ-উপাচার্যের দিকে তেড়ে এলে তিনি দৌড় দেন। এ সময় গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আহত হন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে বৈঠকে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দুপুর ১টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে বেসরকারি টেলিভিশন দিগন্ত টিভির ক্যামেরাম্যান নাজমুলকে বেদম মারপিট করে এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগের কর্মীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ার বলেন, 'শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের বিচার ও হলের সাবসিডি বৃদ্ধির দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়ে আসার সময় ছাত্রলীগের ক্যাডার ও বহিরাগতরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।'
ছাত্রলীগ নেতা মিজু ও গাফ্ফার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় শিবিরকে প্রতিহত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসনের চেষ্টা করছি। এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। সংঘাত এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।'
ঝিনাইদহে শিবিরের কোচিং সেন্টারে আগুন : আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের জের ধরে ঝিনাইদহে ছাত্রলীগকর্মীরা শিবিরের তিনটি কোচিং সেন্টারে আগুন দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেলে ছাত্রশিবির শহরে মিছিল বের করে তাণ্ডব চালায়। এরপর সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ শহরে পাল্টা মিছিল বের করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মিছিল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরের এইচএসএস সড়কের প্যারামাউন্ট ও ফেমাস কোচিং সেন্টারে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে এতে ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নাসির আনসারীর বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর শহরের ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় ছাত্রলীগকর্মীরা সাকসেস কোচিং সেন্টারে আগুন দেয়।

সুত্র - কালের কন্ঠ 

গণজাগরণ মঞ্চের উক্তি নিয়ে আ. লীগে ক্ষোভ


'সরকারের স্পর্ধা' নিয়ে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সম্প্রতি যে মন্তব্য করা হয় তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সর্বশেষ শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্রের একটি উক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও সমালোচনা করেন। বিরোধী দল ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিএনপির দম বন্ধ হয়ে আসে। জন্যই দলটি সেনাবাহিনীকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার আহবান জানায়। তিনি বলেন, 'অনেক কষ্ট করে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। এখন জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কোন পরিবেশে থাকতে চান।'
গতকাল রবিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মুলতবি সভায় এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক অবস্থা, করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। 
গত ২৬ মার্চ শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. এমরান এইচ সরকার তাঁর বক্তৃতায় বলেন, 'দুঃখের বিষয়, আমাদের দাবির ব্যাপারে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মনে হচ্ছে সরকারের টনক নড়েনি, সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, যা প্রকারান্তরে গণমানুষের দাবিকে উপেক্ষা করার শামিল। দাবি উপেক্ষা করে সরকার যে স্পর্ধা দেখিয়েছে, তা নজিরবিহীন।' 
সূত্রে জানা যায়, ইমরানের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে দলের প্রচার সম্পাদক . হাছান মাহমুদ, সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বক্তব্য দেন। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'সরকারের স্পর্ধা নিয়ে প্রশ্ন তোলার স্পর্ধা গণজাগরণ মঞ্চ পায় কোথায়? তাদের বক্তৃতার ড্রাফট কে লেখে, তার খোঁজ লাগান?' সময় সভাপতিমণ্ডলীল সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, 'অনেকেই মনে করে গণজাগরণ মঞ্চের বক্তৃতা আমি ড্রাফট করে দেই, বিষয়টি সত্য নয়। আমিও মনে করি তাদের আন্দোলন এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিত।' মতিয়া চৌধুরী বলেন, 'তাদের আন্দোলন থেমে গিয়েছিল, কিন্তু ব্লগার রাজিব নিহত হওয়ার পরে তারা আবার আন্দোলন জোরদার করে।' এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'ইমোশন দিয়ে আন্দোলন রাজনীতি হয় না। এর জন্য বাস্তবতা অনুসরণ করতে হয়।'
সূত্র আরো জানায়, হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে নাছিম বলেন, এসব মন্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'অল রাবিস' 
সূত্র মতে, সভায় নারায়ণগঞ্জে আইভী-শামীমের বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় নেতারা এর সমাধান জরুরি দাবি করলে শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনকে বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এই বিরোধের মধ্য দিয়ে সেখানে আরো লাশ ফেলবে জামায়াত-শিবির। এর দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগের ওপর বর্তাবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা উঠলে শেখ হাসিনা বলেন, 'খুব শিগগির আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। 
বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার এই সময়ে নেতা-কর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশনা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, 'আমাদের নেতা-কর্মীরা মাঠে সতর্ক থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সাহস পাবে।' সভায় সৈয়দ আশরাফ বিএনপি-জামায়াত জোটের নৈরাজ্য ঠেকাতে সারা দেশে গণসংযোগ কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। শেখ হাসিনা প্রস্তাবের প্রতি গুরুত্বারোপ করে শিগগির এর তারিখ নির্ধারণ করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
সূত্র আরো জানায়, সারা দেশের জেলা সম্মেলন শেষ করতে আরো দুই মাস সময় বৃদ্ধি করেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি মেয়াদ পার হওয়া কমিটিগুলোর আরো ছয় মাস সময় বাড়িয়ে দেন।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে সরকারপ্রধান বলেন, 'লালমনিরহাটের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের কী অপরাধ? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা কেন? মেডিক্যালের শিক্ষার্থীর কী অপরাধ? বোমায় তাঁর চোখ নষ্ট হলো কেন? ছোট বাচ্চার ওপর বোমা মারছেন, পুলিশকে পিটিয়ে বোমা মেরে হত্যা করছেন।' প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, 'চট্টগ্রামে আহত শিক্ষার্থীকে আমি ঢাকায় নিয়ে এসেছি। আজ (গতকাল) শিবিরের হামলায় আহত পুলিশ সদস্যকেও ঢাকায় নিয়ে এসেছি উন্নত চিকিসার জন্য। এই পুলিশ সদস্য হাত দিয়ে বোমাটি না ধরলে অনেক মানুষ হতাহত হতো। কারণে পুলিশ সদস্যের দুই হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এসএসসি পরীক্ষার সময় হরতাল দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত করা হচ্ছে। উনি চান না জাতি শিক্ষিত হোক। সচেতন হোক। উনি চান সবাই তাঁর মতো স্বশিক্ষিত থাকুক।'
শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিরোধী দল অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। ধ্বংস করতে যত রকমের কর্মকাণ্ড করা দরকার তারা তা করে যাচ্ছে। শুধু সরকারের বিরুদ্ধে নয়; বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করতে এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন যেতে না পারে সে জন্যও তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, 'উনি যেখানে ট্যুরে (সফর) যাবেন তার আগে সেখানে মন্দির ভাঙেন। পরে সমবেদনা জানান। আগে কাটেন পরে মলম লাগান। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলের মতো জয় বাংলা বলে অনেক সময় মন্দিরে হামলা চালানো হয় আমাদের ঘাড়ে দোষ দেওয়ার জন্য। উনার কথায় তা ধরা পড়ে গেছে।'
শেখ হাসিনা বলেন, 'মহানবীকে নিয়ে কোনো কটূক্তি বরদাশত করা হবে না। সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। এর জন্য কোনো আন্দোলন করতে হবে না। আমরাও তো মুসলমান। ইসলাম নিয়ে কেউ কটাক্ষ করলে আমাদের অনুভূতিতেও আঘাত লাগে। আমার ধর্মের মর্যাদা কিভাবে রক্ষা করতে হবে তা ভালো করেই জানা আছে। জন্য আমরা ইউটিউব বন্ধ করে দিয়েছি। এর জন্য তো কাউকে আন্দোলন করতে হয়নি।'
ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়া হয়নি- বিরোধী নেত্রীর বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, 'দুর্যোগ মোকাবিলায় কী করতে হবে তা কারো কাছ থেকে আমাদের শিখতে হবে না। বিএনপি নেতা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বলেছিলেন, যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মরেনি। আর আমরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছি। তাদের কেউ এখন খোলা আকাশের নিচে নেই। আমাদের হাতও আছে, মনও আছে।' বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উনি দেন না কেন? কয়েক দিন আগে নাকি সিঙ্গাপুর থেকে অনেক টাকা নিয়ে এসেছেন।'


প্রধানমন্ত্রীর স্বাগত বক্তব্যের পর মাগরিবের নামাজের বিরতি দেওয়া হয়। তারপর আবার শুরু হয় বৈঠক। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্য সময় উপস্থিত ছিলেন। রাত ৮টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল
সুত্র- কালের কন্ঠ